
আব্বাস হোসাইন আফতাব: শীতের কনকনে ঠান্ডায় যখন জনপদ স্থবির হয়ে পড়ে, তখন সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকেন পাহাড়ি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বড়খোলাপাড়া মারমা পল্লীতেও তার ব্যতিক্রম নয়। শীতের এই সময়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উষ্ণতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে একটি মানবিক উদ্যোগ। উপজেলার বড়খোলাপাড়া মারমা পল্লীতে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান এর দেয়া এসব শীতবস্ত্র সামাজিক সংগঠন “চলো যাই রাঙ্গুনিয়া”–এর উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিতরণ করা হয়।
শীতবস্ত্র বিতরণকালে মারমা পল্লীর নারী, পুরুষ ও বয়স্কদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই জানান, পাহাড়ি এলাকায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি হলেও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তি ও আশার বার্তা হয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে “চলো যাই রাঙ্গুনিয়া” এর অ্যাডমিন আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,
শীত মৌসুমে পাহাড়ি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হয়। বড়খোলাপাড়া মারমা পল্লীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছেন। শীতের এই সময়টায় তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংগঠনের লক্ষ্য শুধু কর্মসূচি বাস্তবায়ন নয়, বরং মানুষের কষ্ট অনুভব করে তাদের পাশে দাঁড়ানো। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। 