
নিজস্ব প্রতিবেদক: শীত মানেই পিঠার ঘ্রাণ, আর সেই ঘ্রাণে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল সংলগ্ন হলরুম। চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য এলাকার শতবছরের ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসা কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো শীতকালীন পিঠা উৎসব।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে হাসপাতাল সংলগ্ন মং স্টিফেন চৌধুরী হলরুমে আয়োজিত এ উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং।
উৎসবে আরও উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাইয়ের সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন, আঞ্চলিক চার্চের সভাপতি বিপ্লব মার্মা, ডাক্তার বিলিয়ন এ সাংমা, বিজয় মার্মা, ডাক্তার সোয়াইঙ্গী, ডা. অং, ডা. রাশেদসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
হাসপাতালের চিকিৎসক, স্টাফ, তাদের পরিবার এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সাজানো হয় ১২টি পিঠার স্টল। প্রতিটি স্টলই ছিল নাম ও সাজে আলাদা বৈচিত্র্যের। ‘অন্যরকম পিঠা নগর’, ‘আমাদের সাতরং’, ‘নবান্ন পিঠা বাড়ি’, ‘বউ কথা কও পিঠাঘর’, ‘কৃষ্ণ চূড়া পিঠাঘর’, ‘পিঠা ধুমধুম’, ‘হাও-মাও-খাও পিঠাঘর’, ‘মোগো পিঠাঘর’, ‘মনচুরি’, ‘ডক্টর’স কিচেন’ ও ‘পিঠাঘর’ নামের স্টলগুলোতে চোখ জুড়ানো পিঠার পসরা সাজানো হয়।
স্টলগুলোতে ছিল ভাপা, ছাঁচ, ছিটকা, চিতই, দুধ চিতই, বিবিখানা, চুটকি, চাপড়ি, চাঁদ পাকন, সুন্দরী পাকান, সরভাজা, পুলি, পাটিসাপটা, পানতোয়া ছাড়াও নানা ধরনের পায়েস, সেমাই, ফিরনি, মুড়ি ও চিড়ার মোয়া। পিঠার স্বাদে যেন শীতের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আগত অতিথি ও দর্শনার্থীরা এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরে দেখেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক নারী-পুরুষের পদচারণায় উৎসব প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে মুখর ও আনন্দময়।
উৎসব শেষে স্টলগুলোর আয়োজন, উপস্থাপনা ও বৈচিত্র্য বিচার করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সব স্টলকেই উৎসাহ ও স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।
শীতের পিঠা আর আন্তরিক মিলনমেলায় এই আয়োজন শুধু একটি উৎসবই নয়, বরং হাসপাতাল পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বন্ধন আরও দৃঢ় করে তুলেছে। প্রতিবেদক- আব্বাস হোসাইন আফতাব