স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ৫নং ওয়ার্ড উত্তর ঘাটচেক খন্দকার পাড়া এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে ওমান প্রবাসী রমজান আলী তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তিন বছর বয়সী কন্যা সন্তান ফাইজাকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে চন্দ্রঘোনায় চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চন্দ্রঘোনা গাবতল এলাকায় একটি ইট ভাঙার গাড়ি সামনে চলে আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনায় তারা যখন গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েছিলেন, ঠিক তখনই একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে দুই যুবক নেমে আসে। তারা সাহায্যের ভান করে প্রবাসী রমজান আলীর স্ত্রী পারভীনের হাতে থাকা দামী মোবাইল ফোন এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রবাসী রমজান আলীর বাম হাত এবং তার স্ত্রী পারভীন আক্তারের ডান হাত ভেঙে যায়। শিশু ফাইজা মাথায় সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। জানা গেছে, রোববার রমজান আলীর ওমান ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি যেতে পারেননি।
ঘটনার পরপরই রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড উত্তর ঘাটচেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাজিমুল ইসলাম জুয়েল (আহত রমজানের ভাগ্নে) চন্দ্রঘোনা এলাকার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে নেতৃবৃন্দ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করেন।
নেতৃবৃন্দের ব্যাপক তল্লাশি ও চাপে পড়ে ছিনতাইকারীরা কাপ্তাই রেশম বাগান এলাকায় মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে মোবাইলসহ অপর চোরকে আটক করা হলেও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে লুণ্ঠিত মালামাল ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ছাত্রদল নেতা নাজিমুল ইসলাম জুয়েল জানান, "অসহায় অবস্থায় আমার মামার ওপর এই ছিনতাই ছিল অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তবে চন্দ্রঘোনা এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ের মধ্যে বাইক ও মোবাইলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।"
বর্তমানে আহতরা স্থানীয় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।