
বাংলা নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসবে পান্তা-ইলিশ, মিষ্টান্নের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ পদ “পাচন” আবারও গুরুত্ব নিয়ে ফিরে এসেছে ঘরে ঘরে।
বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এই খাবারটির প্রচলন দীর্ঘদিনের। চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের শুরুতে নানা ধরনের শাক-সবজি, ডাল ও দেশীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি পাচনকে শরীর ও মন শুদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে স্বাস্থ্যরক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন অনেকে।
পুষ্টিবিদদের মতে, পাচনে ব্যবহৃত বিভিন্ন মৌসুমি সবজি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণ করে। একই সঙ্গে এটি সহজপাচ্য হওয়ায় গরমের শুরুতে হজমশক্তি ঠিক রাখতে সহায়ক। ফলে ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিক স্বাস্থ্যচর্চায়ও পাচনের গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গ্রামাঞ্চলের বৈশাখী মেলাগুলোতে এখনো এই খাবারের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। মাটির চুলায় রান্না করা পাচন ক্রেতাদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। অনেকেই এটিকে বাঙালির কৃষিনির্ভর জীবনধারা ও লোকজ সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের হালখাতা অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রেও ঐতিহ্যবাহী খাবারের কদর রয়েছে। মিষ্টির পাশাপাশি নিরামিষ পদ পরিবেশনের এই রীতি সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
সংস্কৃতিবিদরা বলছেন, আধুনিকতার প্রভাবে অনেক ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে থাকলেও পাচনের মতো কিছু খাবার এখনো বাঙালির উৎসব-সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এটি শুধু একটি খাদ্য নয়, বরং ইতিহাস, বিশ্বাস ও জীবনযাত্রার এক সম্মিলিত প্রতিফলন।
নববর্ষের আনন্দঘন মুহূর্তে “পাচন” যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—শিকড়ের প্রতি টান, প্রকৃতির প্রতি নির্ভরতা এবং সনাতন ঐতিহ্যের অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। লেখা- সৌরভ সাহা