
সাবেক রাঙ্গুনিয়ায় চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ এবং প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এই আয়োজনে স্থানীয় জনগণের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেক রাঙ্গুনিয়া সাহা পাড়া ছাত্র-যুবসমাজ ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১লা বৈশাখ (১৫ এপ্রিল ২০২৬) শ্রীশ্রী রাধারমন সেবাশ্রম মাঠ প্রাঙ্গনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। দুপুর ২টায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও গীতাপাঠের মাধ্যমে শুরু হয়ে পরবর্তীতে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৩টায় সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেবেন পরিচিত শিল্পী অপু দে ও প্রিয়া চক্রবর্ত্তী (কনিকা), যেখানে ভক্তিমূলক ও আধুনিক গানের সমন্বয় থাকবে।
সন্ধ্যা ৬টায় আরতি ও ঢাকের বাদ্যে আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যেখানে পরিবেশনায় থাকবে মহামায়া মিউজিক্যাল টিম। এরপর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় মহাসম্মেলনে নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরা হবে। একই দিনে সন্ধ্যা ৭টায় লীলা কীর্তনে সুর তুলবেন কীর্তন শিল্পী সৌরভ সাহা। দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয় দিন ২রা বৈশাখ (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৩টায় “এসো হে বৈশাখ” শিরোনামে নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্থানীয় ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা অংশ নেবেন। সন্ধ্যা ৭টায় উপজাতীয় নৃত্য এবং রাত ৯টায় পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশনা আয়োজনকে বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। রাত ১০টায় নাটক ও পাল্টা কীর্তনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে, যেখানে অংশ নেবেন কবিয়াল বিকাশ দত্ত ও নিরঞ্জন ঘোষ।
আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে লালন, নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে এই উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলে যেতে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে বাসযোগে রাঙ্গুনিয়া মরিয়মনগর চৌমুহনী হয়ে শান্তিনিকেতন নামতে হবে। সেখান থেকে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে শ্রীশ্রী রাধারমন সেবাশ্রম মাঠ প্রাঙ্গনে।