
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামের কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট-এর এক কোণে ১৫ এপ্রিল যেন জমে উঠেছিল স্মৃতির মেলা। রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের বন্ধুরা একত্রিত হয়েছিলেন “বন্ধুত্বের ভালোবাসার লটারি” নামের এক ভিন্নধর্মী আয়োজনে।
সময় অনেক কিছু বদলে দেয়, কিন্তু কিছু সম্পর্ক থাকে ঠিক আগের মতোই। সেই স্কুলজীবনের হাসি, দুষ্টুমি আর অগণিত স্মৃতিকে আবারও ছুঁয়ে দেখার সুযোগ তৈরি করে দেয় এই আয়োজন। প্রবাসে থাকা কিংবা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বন্ধুরা এক মঞ্চে এসে যেন ফিরে যান তাদের কৈশোরে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ১৯৯৫ ব্যাচের বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু সায়েম সামু। এমন উদ্যোগ দেখে তিনি অভিভূত হন এবং বন্ধুত্বের এই বন্ধনকে ধরে রাখার আহ্বান জানান।
এই মিলনমেলার বিশেষ দিক ছিল প্রবাসী বন্ধুদের সম্মাননা। মুহাম্মদ হোসেন, সত্যজিত মুৎসুদ্দি, মুহাম্মদ আরমান, মুহাম্মদ আকবর, মুহাম্মদ জাবেদ ও রমজান—যারা দূরে থেকেও বন্ধুত্বের টানে যুক্ত থেকেছেন—তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক। এতে ফুটে ওঠে কৃতজ্ঞতা আর বন্ধনের গভীরতা।
পুরো আয়োজনের পেছনে যিনি ছিলেন নীরব চালিকা শক্তি, সেই ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ রমজান আলীকে দেওয়া হয় “বন্ধুত্বের বাঁধন পত্র” সম্মাননা। তার নেতৃত্বেই ৯৭ ব্যাচের বন্ধুরা বারবার একত্রিত হওয়ার প্রেরণা পায়। তাঁর নির্দেশনায় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও “বন্ধুত্বের বাঁধন পত্র” পাঠ করেন মুহাম্মদ কাউসার হোসাইন, যা পুরো আয়োজনকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
এই আয়োজন কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং বন্ধুত্বের প্রতি দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে যেখানে সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়, সেখানে এমন একটি উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়—বন্ধুত্ব আসলে সময়ের নয়, হৃদয়ের বন্ধন।