
রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের রাঙ্গুনিয়া কলেজ শাখাটি। ২০০৪ সালে প্রয়াত সাংসদ ও জাতীয় রাজনীতির আলোচিত ব্যক্তিত্ব এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শাখাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের আর্থিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে।
রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ, রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম কামিল মাদ্রাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী তাদের বেতন-ফি জমা, উপবৃত্তি গ্রহণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য এই শাখার ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে মরিয়মনগর, শিলক, কোদালা এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ কৃষিঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সেবার জন্য এই শাখা ব্যবহার করে আসছেন।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এমন খবর জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মরিয়মনগর চৌমুহনীর মতো ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রতিদিন ব্যস্ত সড়ক পার হয়ে ব্যাংকে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়।
এখানে প্রশ্ন ওঠে যে শাখাটি মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক জনসেবার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত, সেটিকে কেন এমন স্থানে সরানো হবে যেখানে সেই মূল লক্ষ্যই ব্যাহত হতে পারে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি পর্যাপ্ত জনমত ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিচ্ছে?
বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ার নির্বাচিত সংসদ সদস্য । তাঁর মরহুম পিতার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই শাখাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এটাই এলাকার মানুষের প্রত্যাশা।
অতএব, রাঙ্গুনিয়া কলেজ শাখা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা এবং স্থানীয় জনগণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেবাগ্রহীতাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া। একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত কখনোই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নেওয়া উচিত নয়।
এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জনস্বার্থ রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। -লেখা-আনোয়ার শাহাদাত হোসেন, কবি ও লেখক